ফাতিমা হাসপাতাল যশোর

ফাতিমা হাসপাতাল যশোর (Fatima Hospital Jessore)

যশোর জেলার গরীব শাহ রোডে অবস্থিত ফাতিমা হাসপাতাল (Fatima Hospital) খুলনা ডিভিশনের অন্যতম সুপরিচিত ও জনসেবামূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসপাতালটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বল্প খরচে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে।

শুধু একটি হাসপাতাল নয়, বরং এটি যশোর ও আশেপাশের এলাকার হাজারো মানুষের জন্য আশার আলো।

ফাতিমা হাসপাতাল যশোরের ইতিহাস

ফাতিমা হাসপাতালের ইতিহাস শুধু একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের গল্প নয় — এটি মানবতা, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সেবার এক অনন্য অধ্যায়।

আজ যে ফাতিমা হাসপাতাল যশোরের হাজারো মানুষের আস্থার জায়গা, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল খুবই সাধারণভাবে। বড় কোনো ভবন বা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নয়, বরং মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিক ইচ্ছা থেকেই।

এছাড়াও পড়ুন: যশোরের সেরা হাসপাতাল

১৯৬৮ সালে ব্রাদার লিও স্টোকো (Brother Leo Stocco) যশোরে আসেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালিয়ান হওয়ার কারণে তাকে চীন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই দুর্ভাগ্যই যেন যশোরবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায়।

খুলনার তৎকালীন বিশপ হিজ এক্সেলেন্সি ডান্তে বাট্টাগ্লিনি S.X.-এর সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ সালের দিকে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে কোনো হাসপাতাল ভবন ছিল না — একটি চার্চের বারান্দায় ছোট্ট ডিসপেনসারি খুলে রোগীদের চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করা হতো।

সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আজকের ফাতিমা হাসপাতাল।

ফাদার মারিয়েট্টি এবং ব্রাদার লিও দিন-রাত পরিশ্রম করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা শুধু চিকিৎসা দেননি, দিয়েছেন সাহস, আশা এবং মানবিক ভালোবাসা। দরিদ্র মানুষ যেন বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা পায় — এটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ফাতিমা হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঝুঁকি নিয়েও গোপনে বহু আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করা হয়। সেই সময় হাসপাতালটি সত্যিকারের মানবতার আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল।

পরবর্তীতে ব্রাদার রেমো বুখারি হাসপাতালের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বড় অবদান রাখেন। তার নেতৃত্বে হাসপাতালটি ধীরে ধীরে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, অপারেশন থিয়েটার ও উন্নত সেবায় সমৃদ্ধ হয়।

আজ ছোট্ট একটি ডিসপেনসারি থেকে বেড়ে উঠে ফাতিমা হাসপাতাল একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল, যেখানে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে।

সত্যি বলতে —
এটা শুধু ইট-পাথরের হাসপাতাল নয়,
এটা কয়েকজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের ফল।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর হাসপাতালের তালিকা

কেন যশোরকে বেছে নেওয়া হয়েছিল?

  • যশোর ছিল প্রথম ক্যাথলিক ডায়োসিসের কেন্দ্র
  • ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহর
  • ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা
  • ফাদার মারিয়েট্টির মিশনারি কাজ এখান থেকেই শুরু

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হাসপাতালটি গোপনে অনেক আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা দেয়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চোখ এড়িয়ে।

পরে ব্রাদার রেমো বুখারি হাসপাতাল আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেবা দেন।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০–৩০০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নেন।

মিশন ও ভিশন

ফাতিমা হাসপাতালের লক্ষ্য হলো —
✔ মানবিক
✔ দক্ষ
✔ মানসম্মত
✔ সাশ্রয়ী

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

প্রতিটি রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা প্রদানই তাদের অঙ্গীকার।

প্রদত্ত সেবাসমূহ

ফাতিমা হাসপাতাল বিস্তৃত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে:

🔹 ক্যান্সার আউটডোর সেবা

বহির্বিভাগে ক্যান্সার রোগীদের পরামর্শ ও চিকিৎসা

🔹 ইনডোর সেবা

ভর্তি রোগীদের জন্য ২৪/৭ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা

🔹 জরুরি বিভাগ

দুর্ঘটনা বা সংকটময় পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

🔹 স্পেশালিটি ক্লিনিক

  • কার্ডিওলজি
  • অর্থোপেডিক
  • গাইনি
  • সার্জারি, ইত্যাদি

🔹 ডায়াগনস্টিক সেবা

আধুনিক ল্যাব ও পরীক্ষার ব্যবস্থা

প্যাথলজি টেস্ট মূল্য তালিকা (সংক্ষিপ্ত)

কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের মূল্য:

টেস্ট

মূল্য

CBC

400/-

RBS/FBS

100/-

Cholesterol

260/-

Creatinine

250/-

TSH

600/-

HBA1C

1000/-

Vitamin B12

2500/-

PSA

2000/-

Blood Group

100/-

X-ray

400–500/-

(হাসপাতালে আরও ৫০+ টেস্টের সুবিধা রয়েছে)

অপারেশন মূল্য তালিকা

অপারেশন

মূল্য

সিজার

20,000/-

নরমাল ডেলিভারি

8,000/-

হার্নিয়া

16,000/-

গলব্লাডার স্টোন

19,000/-

পাইলস/ফিস্টুলা

15,000/-

লিপোমা

16,000/-

ব্রেস্ট টিউমার

16,000/-

ইউটেরাইন প্রোলাপ্স

21,000/-

✔ জরুরি OT চার্জ: 3,000/-
✔ মাতৃত্ব রোগীদের ভর্তি অগ্রিম: 8,000/-

সুবিধা ও অবকাঠামো

ফাতিমা হাসপাতাল আধুনিক চিকিৎসা সুবিধায় সজ্জিত:

✅ ইমার্জেন্সি বিভাগ

২৪ ঘন্টা জরুরি চিকিৎসা

✅ অপারেশন থিয়েটার

পরিষ্কার ও উন্নত সার্জিক্যাল পরিবেশ

✅ ICU

গুরুতর রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ

✅ ল্যাবরেটরি

দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা

চিকিৎসক ও স্টাফ

এখানে রয়েছেন:

  • অভিজ্ঞ ডাক্তার
  • দক্ষ নার্স
  • প্রশিক্ষিত সাপোর্ট স্টাফ

তারা নিয়মিত আপডেটেড প্রশিক্ষণ নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করেন।

সময়সূচি

🕗 সকাল ৮টা – সন্ধ্যা ৭টা
❌ রবিবার বন্ধ

যোগাযোগ

📍 ঠিকানা: গরীব শাহ রোড, যশোর, খুলনা বিভাগ, বাংলাদেশ
📞 ফোন: +880 421-66240

কমিউনিটিতে অবদান

ফাতিমা হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা দেয় না —
এটি মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে যশোরের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করেছে। বছরের পর বছর ধরে লাখো মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এই হাসপাতাল।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর শিশু হাসপাতাল

ফাতিমা হাসপাতাল, যশোর সত্যিকারের অর্থে মানবিক ও বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যসেবার প্রতীক। আধুনিক সুবিধা, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং সাশ্রয়ী খরচ — সব মিলিয়ে এটি যশোরবাসীর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল।

সোজা কথা?
লোকাল, ট্রাস্টেড, কাজের জায়গা।
চিকিৎসা লাগলে চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। 💙

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ফাতিমা হাসপাতাল যশোর কোথায় অবস্থিত?
গরীব শাহ রোড, যশোর, খুলনা বিভাগ।
ফাতিমা হাসপাতাল যশোর কি ধরনের হাসপাতাল?
সাশ্রয়ী ও জনসেবামূলক বহুমুখী হাসপাতাল।
এখানে কি জরুরি চিকিৎসা পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, ২৪/৭ ইমার্জেন্সি সেবা চালু আছে।
ফাতিমা হাসপাতালে কি ইনডোর ভর্তি সুবিধা আছে?
হ্যাঁ, ভর্তি রোগীদের জন্য ইনডোর ও পর্যবেক্ষণ সুবিধা আছে।
কোন কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া যায়?
কার্ডিওলজি, গাইনি, সার্জারি, অর্থোপেডিকসহ বিভিন্ন সেবা।
এখানে কি ডায়াগনস্টিক টেস্ট করা হয়?
হ্যাঁ, আধুনিক ল্যাব ও ৫০+ টেস্টের সুবিধা রয়েছে।
CBC টেস্টের খরচ কত?
প্রায় ৪০০ টাকা।
নরমাল ডেলিভারির খরচ কত?
প্রায় ৮,০০০ টাকা।
সিজার অপারেশনের খরচ কত?
প্রায় ২০,০০০ টাকা।
ফাতিমা হাসপাতালের সময়সূচি কী?
সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, রবিবার বন্ধ।
যোগাযোগ নম্বর কী?
প্রতিদিন কত রোগী চিকিৎসা নেন?
প্রায় ২০০–৩০০ জন।
কেন ফাতিমা হাসপাতাল যশোর জনপ্রিয়?
কম খরচ, অভিজ্ঞ ডাক্তার ও বিশ্বস্ত সেবার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top