দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (DPSC) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি যশোর সেনানিবাসের (Jessore Cantonment) মাঝখানে অবস্থিত। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পরিচিত।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
ডাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের যাত্রা শুরু হয় ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে। বৃহত্তর যশোরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দাউদ খান এই প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেন। প্রথম ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল।
এছাড়াও পড়ুন: যশোর কালেক্টরেট স্কুল
১৭ জুন ১৯৬১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু হয় এবং তখন এখানে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হতো।
পরবর্তীতে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারিত হয়ঃ
- ১৯৬৯ সালে কলেজ শাখা চালু হয়
- এরপর বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ যুক্ত হয়
- ১৯৮৩ সালে কলেজ অংশটি আলাদা হয়ে Cantonment College নামে পরিচালিত হয়
- পরে ২০১৫ সালে আবার কলেজ বিভাগটি Daud Public School and College নামেই পুনরায় চালু করা হয়।
একাডেমিক কার্যক্রম
ডিপিএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন স্তরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে।
মাধ্যমিক স্তর (SSC)
এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা দুইটি গ্রুপ থেকে বেছে নিতে পারে—
- বিজ্ঞান বিভাগ
- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ
উচ্চ মাধ্যমিক স্তর (HSC)
উচ্চ মাধ্যমিকে তিনটি প্রধান বিভাগ রয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ
- পদার্থবিজ্ঞান
- রসায়ন
- জীববিজ্ঞান
- গণিত
- আইসিটি
- ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রাফিক্স / মনোবিজ্ঞান
মানবিক বিভাগ
- বাংলা
- ইংরেজি
- অর্থনীতি
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান
- ভূগোল
- ইসলামের ইতিহাস / ইসলাম শিক্ষা
- সমাজকল্যাণ
- যুক্তিবিদ্যা
- ইতিহাস
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ
- হিসাববিজ্ঞান
- ব্যবস্থাপনা
- অর্থনীতি
- বাণিজ্যিক ভূগোল
- অফিস ব্যবস্থাপনা ও সেক্রেটারিয়াল সায়েন্স
- মার্কেটিং
- ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং
এই বৈচিত্র্যময় বিষয়সমূহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক জ্ঞান অর্জন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করে।
এছাড়াও পড়ুন: যশোর জেলা স্কুল
সহশিক্ষা কার্যক্রম
শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে ডিপিএসসি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেয়।
প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনঃ
- BNCC (Bangladesh National Cadet Corps)
- গার্ল গাইড
- বয় স্কাউট
- কালচারাল ক্লাব
- রেড ক্রিসেন্ট
- কম্পিউটার ক্লাব
- ফটোগ্রাফি ক্লাব
- ম্যাথ ক্লাব
- ইংলিশ ক্লাব
- সায়েন্স ক্লাব
- ডিবেট ক্লাব
- স্পোর্টস ক্লাব
- সং ক্লাব
এই ক্লাবগুলো শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
ক্যাম্পাস ও সুযোগ-সুবিধা
যশোর সেনানিবাসের শান্ত পরিবেশে প্রায় ১৮.৭১ একর জায়গাজুড়ে ডিপিএসসি ক্যাম্পাস বিস্তৃত। শিক্ষার জন্য এখানে আধুনিক ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
প্রধান সুবিধাসমূহ
একাডেমিক ভবন:
প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনগুলো আধুনিক ও সুপরিকল্পিত। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ প্রশস্ত, আলো-বাতাসপূর্ণ এবং উন্নত শিক্ষণ উপকরণ দ্বারা সজ্জিত। ফলে শিক্ষকরা সহজে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরাও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার উপযোগী পরিবেশ পায়।
ল্যাবরেটরি:
শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়ানোর জন্য এখানে উন্নতমানের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে, যা তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী করে।
লাইব্রেরি:
প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যবই, রেফারেন্স বই, সাহিত্যগ্রন্থ এবং ম্যাগাজিন সংরক্ষিত আছে। শিক্ষার্থীরা এখানে শান্ত পরিবেশে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পায়, যা তাদের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খেলার মাঠ:
শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা ও ক্রীড়া দক্ষতা উন্নয়নের জন্য রয়েছে বড় ও পরিচ্ছন্ন খেলার মাঠ। এখানে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও ক্রীড়া কার্যক্রমের ব্যবস্থা রয়েছে।
হোস্টেল:
দূরবর্তী এলাকা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। হোস্টেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
ইউনিফর্ম ও শৃঙ্খলা
ডিপিএসসি-তে একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম নীতি রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও ঐক্যের প্রতীক।
ছেলেদের ইউনিফর্ম
- নেভি ব্লু ফুল প্যান্ট
- হাফ হাতা শার্ট (হাউস ব্যাজসহ)
- কালো বেল্ট
- কালো জুতা ও মোজা
মেয়েদের ইউনিফর্ম
- নেভি ব্লু কামিজ
- সাদা সালোয়ার
- ওড়না
- কালো জুতা ও মোজা
- শীতকালে নেভি ব্লু কার্ডিগান
এছাড়াও পড়ুন: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
Daud Public School and College আজও যশোরের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি, আধুনিক সুবিধা এবং সমৃদ্ধ সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরাসরি ক্যাম্পাসে গিয়ে বা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানতে পারেন।



