যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Jessore University of Science And Technology)

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যশোর জেলার প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিভাগের চতুর্থ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে JUST দেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

📍 অবস্থান ও ক্যাম্পাস

JUST যশোর শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে চুরামনকাটি এলাকায় স্বাধীনতা সড়কের পাশে অবস্থিত। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত হওয়ায় ক্যাম্পাসটি একটি শান্ত, মনোরম ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রদান করে। সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক একাডেমিক ভবন, ডিজিটাল ক্লাসরুম, উন্নতমানের গবেষণাগার এবং সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এখানে বিদ্যমান।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

🎓 একাডেমিক কার্যক্রম ও অনুষদসমূহ

JUST-এ বিভিন্ন অনুষদের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রধান অনুষদগুলো হলো:

🔹 প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

এই অনুষদের অধীনে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (CSE), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE), কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ChE), পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (PME), বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (BME) এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (TE) বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগ দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

🔹 জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ

এখানে মাইক্রোবায়োলজি, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ফার্মেসি এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত। জীববিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় এই অনুষদ বিশেষভাবে সমাদৃত।

🔹 প্রয়োগিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ

এ অনুষদের অধীনে রয়েছে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি, অ্যাগ্রো-প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি এবং ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

🔹 স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদ

ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগসমূহ এই অনুষদের অন্তর্ভুক্ত।

🔹 বিজ্ঞান অনুষদ

গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন বিভাগ নিয়ে গঠিত এই অনুষদ মৌলিক বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা প্রদান করে।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর ক্যান্টনমেন্ট

🔹 কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ

এই অনুষদে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সমসাময়িক সামাজিক ও মানবিক বিষয়াবলি নিয়ে পাঠদান করা হয়।

🔹 ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেটিং বিভাগ রয়েছে।

🧪 গবেষণা ও উদ্ভাবন

গবেষণা JUST-এর অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক গবেষণা কেন্দ্র ও আধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে জিনোম গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত JUST Genome Center স্বাস্থ্য ও রোগসংক্রান্ত জিনগত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে ৮০০-র বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে।

🏫 অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের জীবন

JUST-এর ক্যাম্পাস জীবন প্রাণবন্ত ও বহুমুখী। এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক সংগঠন এবং ক্রীড়া ক্লাব সক্রিয়ভাবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ডিজিটাল লাইব্রেরি: সমৃদ্ধ বই, জার্নাল ও অনলাইন রিসোর্স সম্বলিত আধুনিক গ্রন্থাগার।

  • কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া: শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য উন্নত মানের খাবার সুবিধা।

  • চিকিৎসা কেন্দ্র: ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান।

  • ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা: পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ।

🏛️ উল্লেখযোগ্য স্থাপনা

ক্যাম্পাসে অবস্থিত “Adamya 71” ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত। এটি জাতির অদম্য চেতনার প্রতীক এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস।

🌐 সামাজিক সম্পৃক্ততা

JUST বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যার সমাধানে অবদান রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণালব্ধ জ্ঞান সমাজকল্যাণে প্রয়োগ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাস

📈 র‍্যাংকিং ও স্বীকৃতি

২০২৫ সালের র‍্যাংকিং অনুযায়ী JUST বাংলাদেশে ৩৬তম এবং বিশ্বে ৬১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পরিবেশবিজ্ঞান গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

📞 যোগাযোগ

উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার কার্যালয় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত। ভর্তি, একাডেমিক তথ্য বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়।

সব মিলিয়ে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST) বর্তমানে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার এক নির্ভরযোগ্য ও অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

এটি যশোর শহরের কাছে চুরামনকাটি এলাকায় অবস্থিত।

২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি যশোর জেলার প্রথম এবং বাংলাদেশ এর খুলনা বিভাগের চতুর্থ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা।

স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়।

CSE, EEE, IPE, ChE, PME, BME এবং TE বিভাগ রয়েছে।

এটি জিনগত গবেষণা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শান্ত, সবুজ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।

ডিজিটাল লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, চিকিৎসা কেন্দ্র ও ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা।

এটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি ভাস্কর্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top