যশোর পাসপোর্ট অফিস

যশোর পাসপোর্ট অফিস (Jessore Passport Office)

Department of Immigration and Passports এর অধীনে পরিচালিত যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস বা Regional Passport Office, Jashore বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র। সাধারণ মানুষ এটি “যশোর পাসপোর্ট অফিস” নামেই বেশি চেনে। ১৯৯৮ সালের ২৩ আগস্ট থেকে এই অফিস মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) কার্যক্রম শুরু করে এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সাল থেকে আধুনিক ই-পাসপোর্ট (e-Passport) সেবা চালু করে।

বর্তমানে এই অফিসের মাধ্যমে যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ সহজে পাসপোর্টের জন্য আবেদন, নবায়ন এবং সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর পর আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক হয়েছে।

যশোর পাসপোর্ট অফিসের অবস্থান

যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি যশোর সদর উপজেলার নাজির শংকরপুর এলাকায় অবস্থিত। এটি Sheikh Hasina Software Technology Park এর পাশেই অবস্থিত হওয়ায় সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ঠিকানা

Regional Passport Office, Jashore
Nazir Shankarpur, Jessore Sadar, Jashore, Bangladesh

যোগাযোগের তথ্য

  • ফোন: +880 1733-393365
  • বিকল্প নম্বর: +880 24777-62653
  • ইমেইল: rpojessore@passport.gov.bd
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://passport.jessore.gov.bd/

অফিস সময়সূচি

যশোর পাসপোর্ট অফিস সপ্তাহে পাঁচ দিন খোলা থাকে।

  • রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত
  • শুক্রবার ও শনিবার: বন্ধ

সরকারি ছুটির দিনেও অফিস বন্ধ থাকে। তাই আবেদন বা বায়োমেট্রিকের জন্য যাওয়ার আগে সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।

যেভাবে যাবেন

যশোর শহরের কেন্দ্র থেকে প্রধান সড়ক ধরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নাজির শংকরপুরের দিকে যেতে হবে। রাস্তার পাশে “Regional Passport Office” এর সাইনবোর্ড দেখা যায়। অফিসটি শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় সহজে শনাক্ত করা যায়।

এছাড়াও পড়ুন: যশোর বিআরটিএ অফিস

যশোর পাসপোর্ট অফিসে যেসব সেবা পাওয়া যায়

এই অফিস মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে। বর্তমানে এখানে নিচের সেবাগুলো পাওয়া যায়:

  • নতুন ই-পাসপোর্ট আবেদন
  • পুরাতন এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন
  • পাসপোর্ট সংশোধন
  • হারানো পাসপোর্টের পুনরায় আবেদন
  • জরুরি পাসপোর্ট সেবা
  • বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ
  • পাসপোর্ট বিতরণ

ই-পাসপোর্টে একটি ইলেকট্রনিক চিপ থাকে যেখানে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং বিদেশ ভ্রমণ আরও নিরাপদ হয়।

ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া

যশোর পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট করতে হলে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো।

১. অনলাইনে আবেদন

প্রথমে Bangladesh e-Passport Portal এ প্রবেশ করে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। আবেদন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ঠিকানাসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত

অনলাইন আবেদন শেষে আবেদনপত্র প্রিন্ট করতে হবে। এরপর নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • জন্ম নিবন্ধন সনদ (প্রয়োজন হলে)
  • পূর্বের পাসপোর্টের কপি (যদি থাকে)
  • পাসপোর্ট আবেদন সারাংশ

৩. বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট

নির্ধারিত তারিখে যশোর পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং স্বাক্ষর প্রদান করতে হয়। এটিই বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া।

৪. ফি জমা

পাসপোর্টের ধরন ও ডেলিভারি সময়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি—এই তিন ধরনের ডেলিভারি সুবিধা রয়েছে।

৫. পুলিশ ভেরিফিকেশন

আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। সঠিক তথ্য প্রদান করলে এই ধাপ দ্রুত সম্পন্ন হয়।

৬. পাসপোর্ট সংগ্রহ

সব যাচাই সম্পন্ন হলে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অফিস থেকে পাসপোর্ট গ্রহণ করা যায়।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা

ই-পাসপোর্ট চালুর ফলে নাগরিকরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। যেমন:

  • উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
  • আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল পাসপোর্ট
  • দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া
  • জালিয়াতি প্রতিরোধ
  • অনলাইন ট্র্যাকিং সুবিধা

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে এবং বাংলাদেশও সেই আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ

যশোর পাসপোর্ট অফিস গত কয়েক বছরে সেবার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ডিজিটাল সিস্টেম চালুর ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। অতীতে অফিসের আশেপাশে দালাল চক্রের উপস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য বা অতিরিক্ত খরচের কারণে ভোগান্তির শিকার হন। এ কারণে আবেদনকারীদের সরাসরি অফিসিয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এছাড়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সরকারি সেবায় আরও স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  • আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিক দিন
  • দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে চলুন
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই আবেদন করুন
  • আবেদনপত্র ও রসিদের কপি সংরক্ষণ করুন
  • নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হন

এছাড়াও পড়ুন: যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়

যশোর পাসপোর্ট অফিস বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কেন্দ্র। আধুনিক ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই অফিস নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদ পাসপোর্ট সেবা প্রদান করছে। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে সহজেই পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবার মাধ্যমে যশোর পাসপোর্ট অফিস নাগরিক সেবাকে আরও উন্নত করবে বলে আশা করা যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
যশোর পাসপোর্ট অফিস কোথায় অবস্থিত?
নাজির শংকরপুর, যশোর সদর।
যশোর পাসপোর্ট অফিসে কী সেবা পাওয়া যায়?
ই-পাসপোর্ট আবেদন, নবায়ন ও সংশোধন।
অফিস কখন খোলা থাকে?
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা–বিকাল ৪টা।
শুক্রবার কি অফিস খোলা থাকে?
না, বন্ধ থাকে।
ই-পাসপোর্ট আবেদন কোথায় করতে হয়?
অনলাইনে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট কী?
ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও স্বাক্ষর প্রদান।
পাসপোর্ট ফি কীভাবে জমা দিতে হয়?
নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, প্রয়োজন হয়।
পুরাতন এমআরপি কি নবায়ন করা যায়?
হ্যাঁ, করা যায়।
যশোর পাসপোর্ট অফিসের ফোন নম্বর কী?
+880 1733-393365।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top