যশোর খুলনা বিভাগের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, বর্তমানে বাংলাদেশের উদীয়মান আইটি খাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই অগ্রগতির পেছনে যে প্রতিষ্ঠানের অবদান সবচেয়ে বেশি, সেটি হলো যশোর আইটি পার্ক। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আইটি ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কটি আজ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, স্টার্টআপ সংস্কৃতি এবং দক্ষ জনশক্তির সমন্বয়ে “যশোর আইটি পার্ক কোম্পানির তালিকা” এখন অনেকের কাছেই আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে এই পার্কটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যশোর আইটি পার্কের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
প্রায় ১২.১৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক প্রযুক্তি পার্কটি দেশের আইটি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক অফিস স্পেস, উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ।
এই পার্কটি এমনভাবে পরিকল্পিত, যাতে আইটি কোম্পানি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। এটি শুধু একটি অফিস কমপ্লেক্স নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম।
যশোর আইটি পার্কের কোম্পানির তালিকা
যশোর আইটি পার্কে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন আইটি ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হলো:
- Aamra Holdings Limited – আইটি, টেক্সটাইল ও প্রফেশনাল সার্ভিসসহ বহুমুখী ব্যবসায় জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান।
- Aamra Networks Limited – ইন্টারনেট সেবা ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো সমাধান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
- Aamra Technologies Limited – বিভিন্ন শিল্পখাতে প্রযুক্তি সমাধান প্রদান করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করে।
- OnAir International Ltd. – ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও উদ্ভাবনী আইটি সেবা প্রদান করে।
- Destiny – বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও আইটি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- Software Shop Limited – কাস্টম সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেবা প্রদান করে।
- M/S Saj Telecom and Fashion – টেলিযোগাযোগ ও ফ্যাশন ব্যবসার সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- Water Speed – তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে।
- JUST Startup (Jessore University of Science and Technology Startup) – শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন উদ্যোগ।
- Felicity Bigdata-11 – বিগ ডাটা বিশ্লেষণ ও ডাটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- MetroNet Bangladesh Limited – উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্কিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
- Event Tech – প্রযুক্তিনির্ভর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সমাধান প্রদান করে।
- MicroDream IT – ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা প্রদান করে।
- Sheba Technologies Limited – ব্যবসা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি সমাধান প্রদান করে।
- Technosoft Bangladesh – বিভিন্ন শিল্পখাতে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেবা প্রদান করে।
- Ongsho International – উদ্ভাবন ও গ্রাহক সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইটি সেবা প্রদান করে।
- Prime Tech Solutions Ltd. – ব্যবসার পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি সমাধান তৈরি করে।
- Chakladar Corporation – বহুমুখী ব্যবসার পাশাপাশি আইটি খাতে অবদান রাখছে।
- Trianele Service Ltd. – ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির জন্য আইটি সমাধান প্রদান করে।
- Vics IT – ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়ক আইটি সেবা প্রদান করে।
- Utshab Technology Ltd. – আধুনিক ব্যবসার চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি সমাধান দেয়।
- Telecom Asia – টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
- Spectrum Engineering Consortium Ltd. – ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইটি সেবা প্রদান করে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে।
- Borno IT – সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও আইটি কনসাল্টিং সেবা প্রদান করে।
- JsR IT – বিভিন্ন খাতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদান করে।
- Scholars Tech – শিক্ষা প্রযুক্তি সমাধান প্রদান করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক সল্যুশন, বিগ ডাটা, টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এডুকেশন টেকনোলজি সহ আইটি খাতের প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাজ করছে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব
যশোর আইটি পার্ক স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখানে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এখন নিজ জেলায় থেকেই আইটি খাতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া পার্কটির কারণে আশেপাশে রেস্টুরেন্ট, আবাসন, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবাখাতও প্রসার লাভ করেছে। এটি যশোর ও খুলনা অঞ্চলে একটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্বব্যাপী আইটি সেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যশোর আইটি পার্কের সম্ভাবনাও ব্যাপক। সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা যায়।
স্টার্টআপ ইনকিউবেশন, রপ্তানিমুখী সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং ফ্রিল্যান্সিং খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই পার্কটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রযুক্তি হাবে পরিণত হতে পারে।
Sheikh Hasina Software Technology Park শুধুমাত্র একটি আইটি পার্ক নয়, এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার প্রতীক। যশোরে অবস্থিত এই প্রযুক্তি কেন্দ্র দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যশোর আইটি পার্ক এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।



