যশোর শহরের ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে, খুলনা বিভাগের যশোর জেলায় অবস্থিত এক শান্ত ও মনোরম বিনোদন কেন্দ্র — জেস গার্ডেন পার্ক। প্রকৃতির সৌন্দর্য, সবুজ পরিবেশ এবং পারিবারিক বিনোদনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পার্কটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এম. হাবিবুল হক চুনি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণস্থানে পরিণত হয়েছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজে নিতে চাইলে জেস গার্ডেন পার্ক হতে পারে আদর্শ একটি গন্তব্য।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য ঠিকানা
জেস গার্ডেন পার্কে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকা, পরিচ্ছন্ন বাগান এবং সুসজ্জিত পরিবেশ। পার্কটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর কৃত্রিম লেক বা পুকুর, যেখানে ফুটে থাকে শাপলা ও পদ্মফুল। লেকের চারপাশে হাঁটার সময় প্রকৃতির স্নিগ্ধতা অনুভব করা যায়, যা দর্শনার্থীদের মনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। ছবি তোলার জন্যও এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। লেকের পাশে রয়েছে কুমিরের ভাস্কর্য এবং কৃত্রিম পাখির সাজসজ্জা, যা শিশুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
এছাড়াও পড়ুন: যশোর শহরের ইতিহাস
বিনোদন ও আকর্ষণীয় কার্যক্রম
জেস গার্ডেন পার্ক এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে সব বয়সের মানুষ এখানে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিউজমেন্ট রাইড। ক্যারোসেল, চেয়ার হুইল, হর্স হুইল এবং ছোট ট্রেন রাইড শিশুদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এসব রাইডে চড়ার জন্য পার্কের ভেতর থেকেই আলাদা টিকিট সংগ্রহ করা যায়।
পার্কটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো মিনি চিড়িয়াখানা। এখানে দর্শনার্থীরা কাছ থেকে দেখতে পারেন ছোট আকারের বাঘ, ভালুক, হরিণ, কুমির, ময়ূর, খরগোশসহ বিভিন্ন প্রাণী। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি শিক্ষামূলক এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। মিনি চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে।
পারিবারিক বা দলীয় আয়োজনের জন্য পার্কের পশ্চিম পাশে রয়েছে প্রায় ২৫টি পিকনিক স্পট। এছাড়াও শ্রমজীবী মানুষের জন্য রয়েছে ১০টি বিশেষ বিশ্রামস্থল। ফলে পরিবার, বন্ধু কিংবা অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী পিকনিক বা আড্ডার জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান।
ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য
জেস গার্ডেন পার্ক প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকা, যা সবার জন্যই সাশ্রয়ী। তবে মিনি চিড়িয়াখানা বা বিভিন্ন রাইড উপভোগ করতে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। পার্কটির ঠিকানা হলো — বাহাদুরপুর, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন, যশোর, খুলনা বিভাগ, বাংলাদেশ।
এছাড়াও পড়ুন: যশোর জেলার ইতিহাস
যাতায়াত ব্যবস্থা
যশোর শহর থেকে জেস গার্ডেন পার্কে যাওয়া বেশ সহজ। শহর থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে করে শহরতলির বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাওয়া যায়। সেখান থেকে ৪-৫ জন যাত্রী নিয়ে ইজিবাইক বাহাদুরপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ভাড়া সাধারণত জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাহাদুরপুর স্কুলের সামনে নামার পর সেখান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিট হাঁটলেই পার্কে পৌঁছে যাওয়া যায়।
ভ্রমণকারীদের জন্য কিছু পরামর্শ
পার্কে ঘোরার সময় আরামদায়ক পোশাক ও হাঁটার উপযোগী জুতা পরা ভালো। বিশেষ করে যারা পিকনিকের পরিকল্পনা করেন, তারা সাথে পানি ও হালকা খাবার নিয়ে যেতে পারেন। পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং পার্কের নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক থাকে।
এছাড়াও পড়ুন: যশোর জেলার পোস্টাল কোড
সব মিলিয়ে জেস গার্ডেন পার্ক প্রকৃতি, বিনোদন এবং পারিবারিক আনন্দের এক অনন্য সমন্বয়। যশোরের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই পার্ক দর্শনার্থীদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে। শান্ত পরিবেশে সময় কাটানো, পরিবারের সাথে আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে চাইলে জেস গার্ডেন পার্ক নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার ভ্রমণস্থল।



