তথ্য যাচাই: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ (28 October 2026)। এই গাইডের ফি ও প্রক্রিয়া সরকারি পোর্টালের তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। ফি ও প্রক্রিয়া পরিবর্তন হতে পারে, তাই চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সরকারি পোর্টাল bdris.gov.bd-ই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ।
যশোর জেলার বাসিন্দারা জন্ম নিবন্ধন আবেদন সরকারি পোর্টাল bdris.gov.bd-তে অনলাইনে শুরু করতে পারেন। এই গাইডে রয়েছে কারা আবেদন করতে পারবেন, যশোরে কোথায় আবেদন করবেন, অনলাইন আবেদনের ধাপ, যাচাইকৃত ফি এবং ভুল সংশোধনের নিয়ম।
সংক্ষেপে উত্তর
কারা আবেদন করতে পারবেন: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী সবার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সাধারণত শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবক আবেদন করেন।
কোথায় আবেদন করবেন: যশোরে গ্রাম এলাকায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌর এলাকায় পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। অনলাইন ফরম bdris.gov.bd-তে পূরণ করা যায়।
ফি: জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বিনা ফিসে। ৪৫ দিনের পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের পর ৫০ টাকা (সাকুল্য)।

কারা আবেদন করতে পারবেন
জন্ম নিবন্ধন একটি সরকারি পরিচয় নথি এবং আইন অনুযায়ী সবার জন্য এটি বাধ্যতামূলক। নবজাতকের ক্ষেত্রে সাধারণত পিতা-মাতা বা অভিভাবক আবেদন করেন। বড়দের ক্ষেত্রেও, যাদের জন্ম নিবন্ধন হয়নি, তারা জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারেন। সরকারি প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের পাতায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন না থাকলে বয়সের প্রমাণ হিসেবে শিক্ষাগত সনদ বা এ ধরনের নথির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কার্যালয় বিবেচনা করে। তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন নথি লাগবে, তা আগেই রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জেনে নেওয়া নিরাপদ।
সনদ বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় দেওয়া হয়। আবেদনের সময় নাম বাংলা ও ইংরেজি উভয়ভাবেই সঠিকভাবে লিখতে হবে, কারণ ভুল বানান পরে সংশোধনের ঝামেলা তৈরি করতে পারে।
কোথায় আবেদন করবেন (যশোর)
যশোর জেলায় আবেদন করার জায়গা নির্ভর করে আপনি কোন এলাকায় থাকেন তার ওপর। সাধারণ নিয়মটি হলো:
- গ্রাম এলাকা: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়।
- পৌর এলাকা: সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ওয়ার্ড কার্যালয়।
- অনলাইন আবেদন: সরকারি পোর্টাল bdris.gov.bd-তে ফরম পূরণ করা যায়, এরপর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
এই গাইডে কোনো কার্যালয়ের ঠিকানা বা ফোন নম্বর দেওয়া হয়নি, কারণ সেগুলো সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। সঠিক কার্যালয়টি হলো আপনার বর্তমান ঠিকানা বা জন্মস্থান এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়। সন্দেহ থাকলে যশোর সদর উপজেলা সংক্রান্ত গাইডটি দেখে নিতে পারেন: যশোর সদর উপজেলা গাইড।
অনলাইন আবেদনের ধাপ
সরকারি পোর্টালের জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমে যেসব তথ্য চাওয়া হয়, তার ভিত্তিতে ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো। ফরম জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
- সরকারি পোর্টাল bdris.gov.bd-তে যান।
- জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমটি খুলুন।
- শিশুর নাম বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লিখুন।
- জন্মতারিখ, লিঙ্গ এবং পিতা ও মাতার সন্তানদের মধ্যে শিশুর ক্রম দিন।
- জন্মস্থানের ঠিকানা দিন — দেশ, বিভাগ, ডাকঘর, গ্রাম বা মহল্লা এবং বাড়ি বা রাস্তার তথ্য, ফরমে যেভাবে চাওয়া হয়।
- সব তথ্য আবার মিলিয়ে দেখে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমটি জমা দিন।
- জমা দেওয়ার পর পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং আবেদনের তথ্য সংরক্ষণ করুন।
মনে রাখবেন: অনলাইনে ফরম পূরণ করলেই কাজ শেষ নয়। যাচাই ও সনদ প্রদানের চূড়ান্ত ধাপ সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই কার্যালয় থেকে কোনো অতিরিক্ত নথি বা উপস্থিতি চাওয়া হলে, সেই নির্দেশনা মেনে চলুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সরকারি পাতাগুলোতে একটি মাত্র সর্বজনীন কাগজপত্রের তালিকা প্রকাশিত পাওয়া যায়নি। নিচের টেবিলে তাই আবেদন ফরমে যেসব তথ্য চাওয়া হয় এবং সরকারি প্রশ্নোত্তরে যেসব প্রমাণের কথা এসেছে, সেগুলো সাজানো হয়েছে। জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চূড়ান্ত তালিকাটি নিশ্চিত করে নিন।
| তথ্য বা নথি | কেন লাগে |
|---|---|
| শিশুর নাম (বাংলা ও ইংরেজি) | সনদে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় নাম ছাপা হয়। |
| জন্মতারিখ | নিবন্ধনের মূল তথ্য; ভুল হলে পরে সংশোধন ফি দিতে হয়। |
| লিঙ্গ | আবেদন ফরমের নির্ধারিত তথ্য। |
| পিতা ও মাতার সন্তানদের মধ্যে ক্রম | জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমে এই তথ্য চাওয়া হয়। |
| জন্মস্থানের ঠিকানা | দেশ, বিভাগ, ডাকঘর, গ্রাম বা মহল্লা এবং বাড়ি বা রাস্তার তথ্য ফরমে দিতে হয়। |
| প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়সের প্রমাণ | সরকারি প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাগত সনদ বা এ ধরনের প্রমাণের কথা এসেছে; কোন ক্ষেত্রে কী লাগবে তা রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানাবে। |
ফি
নিচের ফি সরকারি ফি-এর পাতা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের নিবন্ধন কার্যালয়গুলোর জন্য প্রযোজ্য। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ফি আলাদা হতে পারে, তাই এই গাইডে শুধু দেশের ভেতরের ফি দেওয়া হয়েছে।
| কাজ | ফি |
|---|---|
| জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন — ৪৫ দিনের মধ্যে | বিনা ফিসে |
| ৪৫ দিনের পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত | ২৫ টাকা |
| ৫ বছরের পর | ৫০ টাকা (সাকুল্য) |
| জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ফি | ১০০ টাকা |
| জন্মতারিখ ছাড়া অন্য তথ্য (নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি) সংশোধনের আবেদন ফি | ৫০ টাকা |
| বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল সনদ, অথবা তথ্য সংশোধনের পর সনদের কপি | বিনা ফিসে |
| বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল (ডুপ্লিকেট) কপি | ৫০ টাকা |
আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হবে
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয় তথ্য যাচাই করে। যাচাই শেষ হলে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। বর্তমান সনদে ১৭ সংখ্যার নম্বর ব্যবহার করা হয়। পুরোনো সনদের নম্বর ছোট হলে, পুরোনো সনদসহ সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রক্রিয়াকরণের সময়: যাচাই করা সরকারি পাতাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই কত দিন লাগবে, তা আগেই সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে জেনে নিন এবং আবেদনের তথ্য হাতে রাখুন, যাতে প্রয়োজনে খোঁজ নিতে পারেন।
ভুল সংশোধন
সনদে কোনো ভুল থাকলে, যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছে, সেই কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১০০ টাকা এবং জন্মতারিখ ছাড়া অন্য তথ্য সংশোধনের আবেদন ফি ৫০ টাকা। সংশোধনের পর সনদের কপি বিনা ফিসে দেওয়া হয়। মোবাইল নম্বর সংশোধন বা সংযোজনের বিষয়টিও BDRIS ব্যবস্থায় করা যায় বলে সরকারি প্রশ্নোত্তরে উল্লেখ আছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
যশোরে জন্ম নিবন্ধন আবেদন কোথায় করতে হবে?
যশোরে গ্রাম এলাকায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌর এলাকায় পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয়ের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন করা হয়। অনলাইন ফরম bdris.gov.bd-তে পূরণ করা যায়, এরপর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
জন্মের কত দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে ফি লাগে না?
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না। সরকারি ফি-এর পাতায় এই সময়ের জন্য বিনা ফিসে নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে।
দেরিতে নিবন্ধন করলে ফি কত?
৪৫ দিনের পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধন ফি ২৫ টাকা। ৫ বছরের পর নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা (সাকুল্য)।
জন্ম নিবন্ধন সনদে ভুল থাকলে সংশোধন করা যাবে কি?
হ্যাঁ, সংশোধন করা যায়। যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছে, সেই কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১০০ টাকা এবং অন্য তথ্য সংশোধনের আবেদন ফি ৫০ টাকা। সংশোধনের পর সনদের কপি বিনা ফিসে দেওয়া হয়।
অনলাইন আবেদনের পর সনদ পেতে কত দিন লাগবে?
যাচাই করা সরকারি পাতাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই সনদ পেতে কত দিন লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জেনে নিন।
পুরোনো সনদের নম্বর ছোট হলে কী করবেন?
বর্তমানে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হয়। পুরোনো সনদের নম্বর ছোট হলে, পুরোনো সনদসহ সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
আরও যশোর গাইড
যশোরের অন্য এলাকা ও সেবা সম্পর্কে জানতে দেখুন: যশোর সদর উপজেলা গাইড এবং কেশবপুর উপজেলা গাইড।



